ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কবুল’ বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় Logo বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা ১০ মাসের শিশু নিখোঁজ Logo কুমিল্লা সীমান্ত থেকে পুলিশের দুই সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ Logo ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার Logo অন্যের অপমান কবে থেকে আয়ের উৎস হলো?’: এআই অপব্যবহার নিয়ে মেহজাবীনের ক্ষোভ Logo ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ, সুপারিশ পেলেন ১৭০২ জন Logo কুমিল্লায় রাতের সড়কে নিরাপত্তার শঙ্কা, ৯ মাসে ১১১ খুন Logo রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার দাউদ উল ইসলাম গুরুতর আহত Logo ঢাকায় অর্ধশত চেকপোেস্ট ২১ টহল দল, মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা Logo কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপি শাহীন

তীব্র জ্বালানি সংকটে দেশ, মন্ত্রীরা বলছেন সমস্যা নেই

Cumilla Post
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 226
cumillapost অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। তেলচালিত যানবাহন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন মালিক ও চালকরা। অনেকে জরুরি প্রয়োজনেও গাড়ি বের করতে পারছেন না। আবার তেলের আশায় গাড়ি বের করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের সামনে অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা শহর ও আশপাশের পেট্রোল পাম্পগুলো দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। এ কারণে রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের হাতে এক লাখ ৯২ হাজার টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সরকারি ক্রয় কমিটি আরো দেড় লাখ টন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে জ্বালানি বিভাগ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও জ্বালানির দামে উল্লম্ফনের মধ্যেও সরকার দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি এপ্রিলেও বর্তমান দাম বহাল থাকবে বলে গতকাল সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।এদিকে, গ্রাহকদের প্রশ্ন—এত জ্বালানি তেল যাচ্ছে কোথায়। সরকারের আশ্বাসের পরও গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। মাঠের চিত্রও সংকটের কথা বলছে। সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে, সেখানেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিয়ে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। চুয়াডাঙ্গায় একজনকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

চলমান সংকটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ মজুতদারি, কালোবাজারি ও আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত কেনাকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায়ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছে। সরকারের সীমিত সক্ষমতায় এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ লিটার তেল উদ্ধার এবং মজুতদারদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, সরকারের কাছে ‘পর্যাপ্ত তেল মজুত’ থাকার তথ্য মানতে নারাজ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা। তাদের বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের চেয়ে কম তেল পাচ্ছেন তারা। সারা দেশে দুই হাজারের বেশি পেট্রোল পাম্প আছে, যার বেশিরভাগ থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি তেল দেওয়া যাচ্ছে না গ্রাহকদের। দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তেল না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ ভোক্তাদের হামলাসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা বলছেন মালিকরা। এখন থেকে রাতের বেলায় বন্ধ রেখে দিনের বেলায় চালু রাখতে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি পেশ করেছেন মালিক সমিতির নেতারা।দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। সরকারের হাতে থাকা এ মজুতকে সন্তোষজনক বলে মনে করছেন জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তীব্র জ্বালানি সংকটে দেশ, মন্ত্রীরা বলছেন সমস্যা নেই

আপডেট সময় : ০৫:১৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। তেলচালিত যানবাহন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন মালিক ও চালকরা। অনেকে জরুরি প্রয়োজনেও গাড়ি বের করতে পারছেন না। আবার তেলের আশায় গাড়ি বের করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের সামনে অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা শহর ও আশপাশের পেট্রোল পাম্পগুলো দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। এ কারণে রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের হাতে এক লাখ ৯২ হাজার টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সরকারি ক্রয় কমিটি আরো দেড় লাখ টন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে জ্বালানি বিভাগ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও জ্বালানির দামে উল্লম্ফনের মধ্যেও সরকার দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি এপ্রিলেও বর্তমান দাম বহাল থাকবে বলে গতকাল সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।এদিকে, গ্রাহকদের প্রশ্ন—এত জ্বালানি তেল যাচ্ছে কোথায়। সরকারের আশ্বাসের পরও গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। মাঠের চিত্রও সংকটের কথা বলছে। সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে, সেখানেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিয়ে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। চুয়াডাঙ্গায় একজনকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

চলমান সংকটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ মজুতদারি, কালোবাজারি ও আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত কেনাকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায়ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছে। সরকারের সীমিত সক্ষমতায় এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ লিটার তেল উদ্ধার এবং মজুতদারদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, সরকারের কাছে ‘পর্যাপ্ত তেল মজুত’ থাকার তথ্য মানতে নারাজ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা। তাদের বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের চেয়ে কম তেল পাচ্ছেন তারা। সারা দেশে দুই হাজারের বেশি পেট্রোল পাম্প আছে, যার বেশিরভাগ থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি তেল দেওয়া যাচ্ছে না গ্রাহকদের। দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তেল না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ ভোক্তাদের হামলাসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা বলছেন মালিকরা। এখন থেকে রাতের বেলায় বন্ধ রেখে দিনের বেলায় চালু রাখতে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি পেশ করেছেন মালিক সমিতির নেতারা।দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। সরকারের হাতে থাকা এ মজুতকে সন্তোষজনক বলে মনে করছেন জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।