অন্যের অপমান কবে থেকে আয়ের উৎস হলো?’: এআই অপব্যবহার নিয়ে মেহজাবীনের ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৪:১৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 8
বিনোদন ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের নিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ও ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। সস্তা ভিউ, লাইক আর উপার্জনের লোভে অন্যের সম্মানহানি করার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এআই প্রযুক্তির বিকৃত ব্যবহার এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরব হন এই অভিনেত্রী।
মেহজাবীন স্পষ্ট জানান, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং এটি সরাসরি একটি অপরাধ। তবে তাঁর উদ্বেগ শুধু এই কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টি সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন শত শত মানুষ জেনে-শুনে এসব ভুয়া কনটেন্ট শেয়ার করেন, তখন তা সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়কেই সামনে আনে।
সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণার সমালোচনা করে মেহজাবীন লেখেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ ও আয়ের অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, জীবিকা অর্জনের প্রয়োজন থাকতে পারে, কিন্তু কয়েকটি ডলার কিংবা ট্রেন্ডিংয়ে থাকার জন্য অন্যকে হেয় করার অধিকার কারও নেই। যারা এসব তৈরি করছেন না, অথচ স্বেচ্ছায় শেয়ার ও মন্তব্য করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমনির নামে আপত্তিকর এআই-জেনারেটেড ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছিল এবং তারা অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করে ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’ তাদের অনুসন্ধানে নিশ্চিত করে, আলোচিত ভিডিওগুলো আসল নয়; অন্য ভিডিওতে ফেস সোয়াপ প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই অভিনেত্রীর মুখ জুড়ে দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল।












