কুমিল্লায় রাতের সড়কে নিরাপত্তার শঙ্কা, ৯ মাসে ১১১ খুন
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 25
দিনের আলো নিভে রাত নামলেই কুমিল্লার সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের আতঙ্ক। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে গভীর রাতে ঘরে ফেরা মানুষগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
বিশেষ করে সম্প্রতি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমিনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় যাত্রীনিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই জেলায় ১১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় ওঠেন জান্নাতুত তাজমিন। অভিযোগ রয়েছে, গন্তব্যে না নিয়ে চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক চালককে গ্রেফতারের পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও এ ঘটনা রাতের সড়কে নারী, শিক্ষার্থী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে ফেরা দূরপাল্লার যাত্রীদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি পরিসংখ্যানেও দৃশ্যমান। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্যমতে, বছরের প্রথম নয় মাসে ১১১টি খুনের পাশাপাশি আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন অপরাধের মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। আগস্টে খুনের মামলা ছিল ১১টি, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। একই সময়ে ডাকাতি দুটি থেকে তিনটি এবং চুরির ঘটনা ৩৫টি থেকে বেড়ে ৪৪টিতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দস্যুতার মামলা হয়েছে পাঁচটি।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল কেবল গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নয়, মহাসড়কের সংযোগ সড়ক এবং নির্জন এলাকাগুলোতেও স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনিবন্ধিত যানবাহন বন্ধ করা, সিএনজি অটোরিকশা চালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও তথ্য সংরক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা ও টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
তবে সাধারণ নাগরিকেরা বলছেন, শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নয়—ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করে দৃশ্যমান ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই রাতের সড়কে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।













