আমার নিরাপত্তা কোথায়? ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিচার চাইলেন ড. মোশাররফের পুত্রবধূ
- আপডেট সময় : ০২:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 12
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি ও অপপ্রচারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব এবং কুমিল্লা জেলা জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব? আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে দাউদকান্দির বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে নাইমা খন্দকার উল্লেখ করেন, তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য বর্তমানে স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার বিদেশে অবস্থান করছেন। পরিবারের পুরুষ অভিভাবকরা দেশের বাইরে থাকার সুযোগে নিজ বাসায় সম্পূর্ণ একা থাকা অবস্থায় তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার, হয়রানি ও নানাভাবে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো আইনি প্রতিকার পাননি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নাইমা খন্দকার বলেন, “আমি একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজ এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর কিংবা স্বামীর পরিচয়ে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না; একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে এই হুমকি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা দ্রুত খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “নাইমা খন্দকারের সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে কিছু হয়ে থাকলে তা ঢাকায় হতে পারে, কারণ তিনি সচরাচর এলাকায় থাকেন না। এমনকি আমি তাঁকে কখনও দাউদকান্দিতে দেখিনি।” এছাড়া এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।















