ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার Logo পারিবারিক ঐতিহ্য ও সেবার অঙ্গীকার নিয়ে ৯ নং মোহাম্মদপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনেওয়াজ সরকার শানু Logo দেবিদ্বারে সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী আইনে পৌর ছাত্রলীগ নেতা ইমন গ্রেফতার Logo দেবিদ্বারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ, ঐক্যের ডাক সাইদুর রহমান লিটনের Logo দেবিদ্বারে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হামলার শিকার দম্পতি, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন Logo ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদন, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে মাহবুবুল হক চৌধুরীর  Logo দেবিদ্বারে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা Logo ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: গাঁজা ও ভারতীয় চাল জব্দসহ গ্রেফতার ৯ Logo মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, সাবেক ইউপি সদস্যসহ আহত ৫ Logo অভিনয় এখন ‘সেকেন্ড চয়েস’, করপোরেট পরিচালক পদে প্রভা!

ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার

NEWS ROOM
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 11
cumillapost অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আবছার উদ্দিন (সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার)

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭৮)। জানাজার সময়সূচি নিয়ে সমন্বয়হীনতা এবং সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি উপজেলা প্রশাসনের। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। পরে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার পর মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘ ৯ মাস অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা এই বীরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, “চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, তিনি মৃত্যুর পর নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেলেন না। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের ও লজ্জার।”

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত প্রশাসনের লোকজন এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটিও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা মেনে নেওয়া কঠিন।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, তিনি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশের প্রস্তুতি ছিল বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। তিনি সময় সংবাদকে বলেন, “গার্ড অব অনারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে পুলিশের সদস্যরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।”

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, “ঢাকা থেকে মরদেহ বাদ আসরের সময় আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মরদেহ না আসায় এবং পরবর্তী সময়ে কখন মরদেহ আনা হবে, সে বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রশাসনকে অবহিত না করায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান না পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

 

আবছার উদ্দিন (সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার)

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭৮)। জানাজার সময়সূচি নিয়ে সমন্বয়হীনতা এবং সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি উপজেলা প্রশাসনের। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। পরে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার পর মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘ ৯ মাস অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা এই বীরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, “চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, তিনি মৃত্যুর পর নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেলেন না। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের ও লজ্জার।”

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত প্রশাসনের লোকজন এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটিও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা মেনে নেওয়া কঠিন।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, তিনি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশের প্রস্তুতি ছিল বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। তিনি সময় সংবাদকে বলেন, “গার্ড অব অনারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে পুলিশের সদস্যরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।”

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, “ঢাকা থেকে মরদেহ বাদ আসরের সময় আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মরদেহ না আসায় এবং পরবর্তী সময়ে কখন মরদেহ আনা হবে, সে বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রশাসনকে অবহিত না করায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান না পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।