ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মুরাদনগরে আরিফ সরকার চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / 39
মুরাদনগর প্রতিনিধি :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি কৌশলে সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ হোসনেয়ারা আক্তার (৩২) মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তদের একজন ভুক্তভোগীর ছোট বোনকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। এ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৌশলে ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর থেকেই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। সংগৃহীত ছবি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। মান-সম্মানের ভয়ে প্রথমে ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন। কিন্তু এরপরও থামেনি নির্যাতন। বরং আরও ১ লাখ ১১ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি অব্যাহত থাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি বিকৃত করে প্রকাশ করে এবং অপপ্রচার চালায়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ছোট বোনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে করে পরিবারটি সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আরিফ সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রবাসে অবস্থান করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নারীর ছবি এডিট করে ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই তার মূল উদ্দেশ্য বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা আক্তার বলেন, “আমি চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না। আমার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” তিনি আরও জানান, তার এবং তার স্বামীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তাকে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করছে, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত আরিফ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো গুরুতর অপরাধ এবং দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয়।
বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা বাড়ায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা দেয়। তাই ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

















