‘অনাগ্রহী’ যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 39
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অনাগ্রহী বলে মনে হলেও, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে তেহরান ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই’ পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি নতুন প্রস্তাব শেয়ার করতে পারে। এমনকি প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখানোর পরও। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগের জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি ধীরগতির- এমনটাই জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছেন, একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগনের মূল্যায়ন নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে আরাঘচি যে প্রস্তাবটি নিয়ে গিয়েছিলেন, তাতে ধাপে ধাপে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যুটি পাশে রাখা হবে।
প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেন পুনরায় যুদ্ধ শুরু না করতে পারে- এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। এরপর আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর আরোপিত সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমাধানে পৌঁছাবেন। ইরান চায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হোক। এরপরই কেবল অন্যান্য বিষয়, বিশেষ করে ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের বিষয় আলোচনায় আসবে।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবের বিষয়বস্তু আংশিকভাবে নিশ্চিত করে বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেছে। তিনি বলেন, ইরান আমাদের জানিয়েছে যে তারা এখন ‘ধসের অবস্থায়’ আছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব চায় আমরা ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দিই’। একই সঙ্গে তারা তাদের নেতৃত্ব সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে (যা আমি মনে করি তারা করতে পারবে!)।
তবে সিএনএন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করার ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্প গ্রহণ করবেন এমন সম্ভাবনা কম। এদিকে কাতার সতর্ক করেছে, সমাধান না এলে পরিস্থিতি ‘স্থবির সংঘাতে’ রূপ নিতে পারে। এদিকে পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম আলোচনায় সহায়তা করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির বিশ্বস্ত দূত হিসেবে কূটনীতিকরা শান্তির স্থপতি- সংলাপ, সহমর্মিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা সামাল দেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নিষ্ঠাবান প্রচেষ্টা রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নীতিগত দৃঢ়তাকে বাস্তব কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রূপ দেয়। এটাই প্রকৃত কূটনীতি।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবের বিষয়বস্তু আংশিকভাবে নিশ্চিত করে বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেছে। তিনি বলেন, ইরান আমাদের জানিয়েছে যে তারা এখন ‘ধসের অবস্থায়’ আছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব চায় আমরা ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দিই’। একই সঙ্গে তারা তাদের নেতৃত্ব সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে (যা আমি মনে করি তারা করতে পারবে!)।
তবে সিএনএন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করার ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্প গ্রহণ করবেন এমন সম্ভাবনা কম। এদিকে কাতার সতর্ক করেছে, সমাধান না এলে পরিস্থিতি ‘স্থবির সংঘাতে’ রূপ নিতে পারে। এদিকে পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম আলোচনায় সহায়তা করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির বিশ্বস্ত দূত হিসেবে কূটনীতিকরা শান্তির স্থপতি- সংলাপ, সহমর্মিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা সামাল দেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নিষ্ঠাবান প্রচেষ্টা রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নীতিগত দৃঢ়তাকে বাস্তব কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রূপ দেয়। এটাই প্রকৃত কূটনীতি।
আলাদাভাবে রয়টার্স জানিয়েছে, যদি ট্রাম্প ক্ষয়ক্ষতিপূর্ণ এই যুদ্ধ থেকে সরে এসে একতরফা বিজয় ঘোষণা করেন, তাহলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা বোঝার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্লেষণ করছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ ধরনের বিভিন্ন প্রশ্ন বিশ্লেষণ করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এই যুদ্ধ চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়েছেন। কারণ এই সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগনের মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করায় যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪.১৮ ডলার।














