দেবিদ্বারে কৃষক জুলুস মিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 8
মাহফুজ আহম্মেদ, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নে কৃষক জুলুস মিয়া (৫৫) হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী শিউলী আক্তার ছোট ছোট শিশু সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে স্বামী হত্যার বিচার দাবি করলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রোববার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী শিউলী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার ছোট ছোট সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। যারা তাকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ভূমিহীন সংগঠনের সভাপতি লীল মিয়া, নিহতের ভাতিজা সোহেল রানা, সুলতান হাজী, বাসির সামিউন, খোকন মিয়া, ওসমান ভূইয়া, সরু মিয়া, খাইরুল আমিন, আবু হানিফ, শাহ আলম, মজিবুর রহমান, হবি, নাজমুল হাসান, মাজহারুল ও আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, একজন নিরীহ কৃষককে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার একটি চায়ের দোকানে কুকুরকে লাথি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মো. কামাল হোসেন (৩৫) একটি কুকুরকে লাথি দিলে এর প্রতিবাদ করেন জুলুস মিয়া। পরে দুজনের বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জুলুস মিয়ার অণ্ডকোষে লাথি মারা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা কামালের ভাই আনোয়ার (২৮), আলী আহম্মদ (৩০) ও চাচাতো ভাই ফখরুলের নামও উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার একদিন পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই বাঁধনের নেতৃত্বে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি দল ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা থেকে গত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, জুলুস মিয়া কৃষিকাজ করে ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের পরিবার চালাতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।












