এলজিইডিতে ক্ষমতার একক আধিপত্য: বহুপদ দখল, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 28
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে আবারও উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, বহুপদ দখল এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। অধিদপ্তরের একজন প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমানকে ঘিরে এসব অভিযোগ এখন প্রকৌশলী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, আতাউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডির মেকানিকাল সেকশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ফরিদপুরের টেপাখোলা লেক উন্নয়ন প্রকল্প এবং মেহেরপুর জেলার দুটি পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, “এলজিইডিতে অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার থাকা সত্ত্বেও তাদের পাশ কাটিয়ে একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারকে এমন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও বৈষম্যমূলক।”
অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আতাউর রহমান নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে রেখে একাধিক পদে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি তিনি এল কে এস এস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিষয়ক পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন বলে জানা গেছে, যেখানে তার একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরতেন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন—যা অনেকের কাছে “সুবিধাবাদী রূপান্তর” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এলজিইডির মেকানিকাল সেকশন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সেকশনটি দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। আতাউর রহমানের দায়িত্বকালেও নানা ধরনের আর্থিক অনিয়ম, প্রক্রিয়াগত ব্যত্যয় এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি পুরাতন লিফট গোপনে বিক্রির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, অভিযোগ রয়েছে—প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে সেই তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এগুলো কি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ, নাকি এলজিইডির ভেতরে আরও বড় কোনো অনিয়মের ইঙ্গিত?
এ বিষয়ে আতাউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি, নইলে সৎ ও মেধাবী প্রকৌশলীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে এবং অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যাবে।









