ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দেবিদ্বারে ক্লিন ইমেজের নেতা আলম হাজারীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন; রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে স্থানীয়দের দাবি Logo কুমিল্লায় বাঙ্গরাবাজার উপজেলায় জনচলাচলের রাস্তা দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে Logo দাউদকান্দিতে মালিগাঁও ইউনিয়ন মাদকবিরোধী সংগঠন গঠন।  সভাপতি নির্বাচিত রাদিত ভূঁইয়া শুভ Logo দাউদকান্দিতে মোহনা টেলিভিশনের কার্যালয় লুটপাট ও তালাবদ্ধ, স্তব্ধ করার চেষ্টা সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ   Logo কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা নারীকে ধর্ষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল Logo রেমিট্যান্সে রেকর্ড, অর্থবছরে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার Logo রাজধানীতে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার Logo সচিবালয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে! সাংবাদিকতার আড়ালে আ’লীগ নেতার চাঁদাবাজি ও ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ Logo ঢাবি শিক্ষার্থী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন Logo গণপূর্তের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: কাজ না করেই বিল উত্তোলন, টেন্ডার বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট তথ্য দুদকে।

সচিবালয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে! সাংবাদিকতার আড়ালে আ’লীগ নেতার চাঁদাবাজি ও ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

NEWS ROOM
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 78
cumillapost অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়কে ঘিরে নানামুখী অপতৎপরতা, চাঁদাবাজি এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনের পরিচয়ধারী কথিত সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে তার অবাধ প্রবেশ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রাজধানীজুড়ে এক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

 

ফুটপাতের চাঁদাবাজি থেকে বিলাসবহুল জীবন:

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান রুমন মূলত তুরাগ থানা যুবলীগের একজন সক্রিয় সদস্য। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার কথিত মামা এবং ঢাকা উত্তর যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা আবু কালামের ছত্রছায়ায় রুমনের উত্থান ঘটে। তৎকালীন সময়ে উত্তরা এলাকার ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সেক্টর থেকে মাসোহারা তোলার মূল কারিগর ছিলেন এই রুমন। ফুটপাতের চাঁদাবাজির টাকায় বর্তমানে তিনি উত্তরায় নিজস্ব বিলাসবহুল অফিস ও দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গুলশানে স্পা সেন্টারগুলোতে চাঁদাবাজির জাল:

 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রুমনের অপতৎপরতা কমেনি, বরং কৌশল বদলেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন তিনি। বর্তমানে ফ্যাসিবাদের আরেক দোসর সুজিত চক্রবর্তীর সহযোগী হিসেবে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন রুমন।

 

সচিবালয়ের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ব্যবহার করে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’:

 

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই কথিত সাংবাদিকের কাছে রয়েছে সচিবালয়ে প্রবেশের বিশেষ ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড’। অভিযোগকারীদের দাবি, রুমন মূলত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ‘গুপ্তচর’ হিসেবে সচিবালয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এই কার্ডের অপব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সরকারের ভেতরকার তথ্য বাইরে পাচার করে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তার এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

 

আইনানুগ ব্যবস্থা ও কার্ড বাতিলের দাবি:

সচিবালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট দোসর এবং চাঁদাবাজির একাধিক মামলার আসামির অবাধ যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা অবিলম্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তুরাগ থানা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নামে ইস্যুকৃত সচিবালয়ের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সচিবালয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে! সাংবাদিকতার আড়ালে আ’লীগ নেতার চাঁদাবাজি ও ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়কে ঘিরে নানামুখী অপতৎপরতা, চাঁদাবাজি এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনের পরিচয়ধারী কথিত সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে তার অবাধ প্রবেশ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রাজধানীজুড়ে এক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

 

ফুটপাতের চাঁদাবাজি থেকে বিলাসবহুল জীবন:

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান রুমন মূলত তুরাগ থানা যুবলীগের একজন সক্রিয় সদস্য। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার কথিত মামা এবং ঢাকা উত্তর যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা আবু কালামের ছত্রছায়ায় রুমনের উত্থান ঘটে। তৎকালীন সময়ে উত্তরা এলাকার ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সেক্টর থেকে মাসোহারা তোলার মূল কারিগর ছিলেন এই রুমন। ফুটপাতের চাঁদাবাজির টাকায় বর্তমানে তিনি উত্তরায় নিজস্ব বিলাসবহুল অফিস ও দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গুলশানে স্পা সেন্টারগুলোতে চাঁদাবাজির জাল:

 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রুমনের অপতৎপরতা কমেনি, বরং কৌশল বদলেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন তিনি। বর্তমানে ফ্যাসিবাদের আরেক দোসর সুজিত চক্রবর্তীর সহযোগী হিসেবে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে এই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন রুমন।

 

সচিবালয়ের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ব্যবহার করে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’:

 

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই কথিত সাংবাদিকের কাছে রয়েছে সচিবালয়ে প্রবেশের বিশেষ ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড’। অভিযোগকারীদের দাবি, রুমন মূলত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ‘গুপ্তচর’ হিসেবে সচিবালয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এই কার্ডের অপব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সরকারের ভেতরকার তথ্য বাইরে পাচার করে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তার এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

 

আইনানুগ ব্যবস্থা ও কার্ড বাতিলের দাবি:

সচিবালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট দোসর এবং চাঁদাবাজির একাধিক মামলার আসামির অবাধ যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা অবিলম্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তুরাগ থানা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নামে ইস্যুকৃত সচিবালয়ের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে মোস্তাফিজুর রহমান রুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।